সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

তাড়াশের প্রতিবন্ধী ছাইফুলের ব্যাতিক্রমী প্রয়াস

admin
  • Update Time : রবিবার ১২ মার্চ, ২০১৭
  • ২৫০ বার পঠিত

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
গ্রামের কাঁদা মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা, জাতীয় চারনেতাসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের গুণী মানুষদের ভাস্কর্য। “হটাও জঙ্গি, বাঁচাও দেশ-শেখ হাসিনার নির্দেশ।” মানুষকে সচেতন করার জন্য লিখেছেন মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেতনামূলক বার্তা। ২০০৫ সালে অন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে রঙতুলিতে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক ছবি এঁকে যায়গা করে নেয় বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে।
মুগুড় পা নিয়ে জন্মানো তাড়াশের সাইফুল ইসলামের ডান পা বাঁকা, চিকন, তুলনামূলক খাটো ও শক্তিহীন। দেখে সুস্থ এবং সুশ্রী মনে হলেও স্বাভাবিক চলাফেরায় তার ভিষণ কষ্ট। সে উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের মৃত জুব্বার আলীর ছেলে।
অনেকটাই সত্য যে, প্রতিবন্ধিতা আর দারিদ্রতার নিবীর সম্পর্ক রয়েছে। ছাইফুলও এর বাইরে নয়। তবুও ভূমিহীন অতি দরিদ্র সাইফুল সামাজিক সব বাধা আর প্রতিবন্ধিতাকে পেছনে ফেলে রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্মে অর্জন করেছেন মাস্টার ডিগ্রি প্রথম বিভাগ।
সাইফুলের বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেয়ালে লেখা রয়েছে “জীবন সংগ্রামে আমিও একজন সৈনিক। আমার সংগ্রাম পৃথিবীর সকল মাদকসেবী, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। ঘরের মধ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা, জাতীয় চারনেতা, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, এম এজি ওসমানী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন কবি, লেখক তথা স্বাধীনতার স্বপক্ষের গুণী মানুষদের ভাস্কর্য।
উপজেলার প্রতিটি ব্রিজ, কালভার্ট ও  দৃশ্যমান স্থানসহ হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ব্রিজগুলোতে তাকালেই চোখে পড়ে সাইফুলের লেখা সচেতনতামূলক বার্তা “হটাও জঙ্গি, বাঁচাও দেশ-শেখ হাসিনার নির্দেশ।” “মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নয়-এসো পৃথিবীতে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করি।” “শুধুমাত্র পারিবারিক সচেতনা আপনার সন্তানকে মাদকসেবী, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কমকান্ড থেকে রক্ষা করতে পারে।”  এ রকম আরো অনেক বার্তা।


সাইফুল বলেন শৈশব থেকেই আমি প্রতিবন্ধিতা আর দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে চলেছি। অনেক প্রতিকূলতা আর বাধা উপেক্ষা করে অর্জন করেছি সর্বচ্চ ডিগ্রি। একটি চাকরির খোঁজে ছুটে চলেছি সরকারি বেসরকারি এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে। তবে চাকরি না পেলেও কর্মের মাঝে পেয়েছি মানুষের অনেক ভালবাসা। সাইফুলের ভিষণ ইচ্ছে, তার তৈরি ভাস্কর্যগুলো জাতীয় জাদুঘরে স্থান পাক। যেন দেশের নতুন প্রজন্মের ভাস্ককর্যগুলো দেখে এসব গুণি মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়।
দুঃখ, কষ্ট, বেকারত্ব, দারিদ্রতা আর শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে সাথী করে ঘুরছে তার জীবন-সংসারের চাকা। তবুও কাজ করে চলেছেন  মানুষ-মানবতা ও দেশের কল্যাণে। মানুষ সচেতন হোক, উন্নত হোক বাংলাদেশ আর বাঙ্গালি জাতি। বাস্তবায়ন হোক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্ম দর্শন। একজন নাগরিক হিসেবে এটাই প্রতিবন্ধী সাইফুলের প্রত্যাশা।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..